দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: নিত্যপণ্যে চাপ বাড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর

ঢাকা: দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, সবজি ও মাছের দামে সাম্প্রতিক বৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, বাজার তদারকি দুর্বল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহন খরচ, আমদানি ব্যয় এবং ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পণ্যের দামে পড়ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ভোট‑পরিস্থিতি

ঢাকা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশের কয়েকটি জেলায় বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা, মিছিল–সমাবেশ এবং পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা ও ভোটকেন্দ্র এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্বেগ কিছু এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উত্তেজনাকর তথ্য ছড়ানোর কারণে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনের প্রস্তুতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিক সমন্বয় সভা করেছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব ছড়ানো রোধেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সময়ে দায়িত্বশীল আচরণ, সংযমী বক্তব্য এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি। নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। উপসংহার বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং শক্তিশালী প্রশাসনিক ভূমিকার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব—এমনটাই আশা করছে সাধারণ মানুষ।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে সমর্থন করলেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক

টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দৃঢ় অবস্থানকে সমর্থন করেছেন নাসের হুসেইনএএফপি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দৃঢ় অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন। আইসিসিকে সব দেশের প্রতি সমান আচরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, খেলায় রাজনীতি থামানোর সময় এসেছে। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপের দল পাঠাতে রাজি হয়নি। এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিলে পাকিস্তান সরকার বিশ্বকাপে ভারত-ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়। বাংলাদেশের নিজেদের অবস্থানে অটল থাকা ও পাকিস্তান সরকারের পাশে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্কাই ক্রিকেট পডকাস্টে আরেক সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইক আথারটনকে নাসের বলেন, ‘বাংলাদেশের নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকাটা আমার ভালো লেগেছে। তারা তাদের খেলোয়াড় “ফিজ” (মোস্তাফিজ)-এর জন্য দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের অবস্থানও আমার ভালো লেগেছে।’ পাকিস্তানের বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোটা শুধুই ক্রিকেটীয় নয় বলে মনে করেন নাসের। তবে ক্রিকেট প্রশাসনে রাজনীতির দাপট থামাতে কোনো একটি পক্ষ থেকে দৃঢ় অবস্থান দরকারও মনে করেন তিনি, ‘আমি জানি এটা রাজনৈতিক। পাকিস্তানের বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোটা আমার ভালো লেগেছে। কোনো না কোনো পর্যায়ে কাউকে তো বলতে হবে যে এই রাজনীতি আর না।’ শনিবার শুরু হতে যাওয়া টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়ার কথা। তবে পাকিস্তান সরকার ম্যাচটি না খেলার ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আর্থিক কারণে চাপে পড়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শুধু ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বাজার আছে, যা পুরো টুর্নামেন্টের বাকি সব ম্যাচের চেয়ে বেশি। পাকিস্তান আর্থিক দিকটি বিবেচনায় নিয়েই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছে বলে মনে করেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক, ‘এটি একটি বড় রকমের সংকটপূর্ণ মুহূর্ত হতে পারে। কারণ, আইসিসি বা এমনকি ভারতকেও আঘাত করার একমাত্র উপায় হলো ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের অর্থ ও অর্থসংস্থান। এটাই একমাত্র পথ।’ গত বছর এশিয়া কাপে ভারতের ক্রিকেটাররা পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌজন্যমূলক হাত মেলাননি, ফাইনালে জেতার পর পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফিও নেননি সূর্যকুমার যাদবরা। এমন পরিস্থিতিকে ‘হতাশাজনক’ উল্লেখ করে নাসের বলেন, ‘খেলাধুলা ও রাজনীতির মধ্যে সব সময়ই একটি যোগসূত্র ছিল, কিন্তু সম্প্রতি মনে হচ্ছে সেই যোগসূত্রটি আরও গভীর হচ্ছে। আগে এটি ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হতো, কিন্তু এখন এটিই নিয়মে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু রাজনীতি বা রাজনীতিবিদদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, খেলোয়াড়দের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক বছরে আমি খেলোয়াড়দের যা করতে দেখেছি তা বেশ হতাশাজনক—করমর্দন না করা, ট্রফি না তোলা। ক্রিকেট আগে সেইসব জাতি ও দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করত, যাদের মধ্যে সমস্যা ছিল, আর এখন এটি মানুষকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে।’ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বর্তমান সংকট নিয়ে তিনি আথারটনকে বলেন, ‘আপনাকে মনে রাখতে হবে এই সাম্প্রতিক সংকটের শুরুটা কোথায়। রহমান (মোস্তাফিজুর রহমান) আইপিএলে কলকাতার হয়ে খেলছিলেন, অথবা স্কোয়াডে ছিলেন। হঠাৎই বিসিসিআই বলে দিল—না, বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তাকে স্কোয়াড থেকে সরিয়ে দিতে হবে। সেই একটি সিদ্ধান্ত থেকেই সবকিছু তুষারপাতের মতো বড় আকার ধারণ করেছে।’ আইসিসি কি ভারতের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেবে? ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কায় দল না পাঠানোর কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিজেদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করতে অনুরোধ করে গত ৪ জানুয়ারি। তবে আইসিসি ‘নিরাপত্তা শঙ্কা নেই’ ও ‘সময় স্বল্প’ জানিয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। আয়োজক সংস্থা হিসেবে আইসিসির জন্য সময় কম থাকার বিষয়টি সহানুভূতির চোখে দেখছেন নাসের। তবে অতীতের দৃষ্টান্তের কারণেই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করেন তিনি, ‘আইসিসির প্রতিও আমার কিছুটা সহানুভূতি আছে। একেবারে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, আমরা যাচ্ছি না। তবে আসল তুলনা বা প্রশ্নটি সেখানেই, যার উত্তর শুধু আইসিসিই দিতে পারে। ভবিষ্যতে কোনো টুর্নামেন্টের এক মাস আগে যদি ভারত বলে যে আমাদের সরকার ওই দেশে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে বারণ করছে, তবে আইসিসি কি তখনো এমন অনমনীয় থাকবে এবং বলবে যে— তোমরা নিয়ম জানো, তোমাদের কপাল খারাপ, আমরা তোমাদের বাদ দিয়ে দিচ্ছি?’ নাসের বলেন, সব পক্ষ আসলে নিয়মের ধারাবাহিকতা বা সমতা চায়। ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা হিসেবে আইসিসিকে তা ন্যায্যতার সঙ্গে করতে হবে, ‘আপনাকে বাংলাদেশের সঙ্গে ঠিক তেমনই আচরণ করতে হবে যেমনটা পাকিস্তানের সঙ্গে করেন, ভারতের সঙ্গে করেন। এখন ভারতের সমর্থকেরা বলতেই পারেন যে—আরও কাঁদো, আমাদের টাকা আছে, সবকিছু আমাদের হাতে; কিন্তু ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্বও আসে। আপনি যদি ক্রমাগত বাংলাদেশ বা পাকিস্তানকে কোণঠাসা করেন, তবে তাদের ক্রিকেটের মান কমে যাবে। ফলে অতীতে ভারত-পাকিস্তান বা ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমরা যেসব দুর্দান্ত লড়াই দেখেছি, সেগুলো একপেশে হয়ে যাবে, যেমনটা এখন হচ্ছে।’
প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ — সামনে কী আসছে?

প্রযুক্তি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে পরিবর্তন শুধু দ্রুত নয়—এটি আমাদের জীবন, কাজ এবং চিন্তার ধরন সম্পূর্ণভাবে বদলে দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), স্বয়ংক্রিয়তা (Automation), ডেটা বিশ্লেষণ, এবং ডিজিটাল সংযোগ—এই চারটি বিষয়ই আগামী দিনের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং AI এখন আর শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নয়। স্বাস্থ্যসেবায় রোগ নির্ণয়, ব্যাংকিংয়ে জালিয়াতি শনাক্তকরণ, শিক্ষায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক শেখার পদ্ধতি—সবখানেই AI গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে AI আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হবে, তবে এর সাথে নৈতিকতা ও মানবিক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। অটোমেশন ও রোবোটিক্স কারখানা, লজিস্টিকস, কৃষি এমনকি সেবাখাতেও অটোমেশন কাজকে করছে দ্রুত ও নির্ভুল। এতে উৎপাদনশীলতা বাড়লেও, একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের ধরন পরিবর্তন হচ্ছে। ভবিষ্যতে টিকে থাকতে হলে মানুষকে নতুন দক্ষতা অর্জনে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে। ক্লাউড, এজ কম্পিউটিং ও ডেটা ডেটাই এখন নতুন সম্পদ। ক্লাউড ও এজ কম্পিউটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হচ্ছে। স্মার্ট সিটি, স্মার্ট হাসপাতাল এবং স্মার্ট ট্রান্সপোর্ট—সবকিছুর ভিত্তিতেই রয়েছে এই ডেটা অবকাঠামো। সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যের গোপনীয়তা যত বেশি আমরা ডিজিটাল হচ্ছি, ততই বাড়ছে সাইবার ঝুঁকি। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির বড় চ্যালেঞ্জ হবে ডেটা সুরক্ষা, গোপনীয়তা রক্ষা এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা। সরকার, প্রতিষ্ঠান ও ব্যবহারকারী—সবার সম্মিলিত দায়িত্ব এখানে গুরুত্বপূর্ণ। মানবিক ও দায়িত্বশীল প্রযুক্তি প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হচ্ছে, ততই প্রশ্ন উঠছে—এটি কি সবার জন্য সমানভাবে উপকারী? ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নৈতিক এবং মানুষের কল্যাণকেন্দ্রিক। প্রযুক্তির লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবন সহজ করা, মানুষকে প্রতিস্থাপন করা নয়। উপসংহার প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো—আমরা কি কেবল ব্যবহারকারী হয়ে থাকব, নাকি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব? প্রযুক্তি আমাদের হাতে—ব্যবহারটাই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ।
নির্বাচনে সংশ্লিষ্টদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

নির্বাচনে সংশ্লিষ্টদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ফ্যাসিবাদের করুণ পরিণতির কথা মাথায় রেখে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬’ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে খুলনা বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ নির্দেশ দেন তিনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, র্যাব (এসআইএফ)-এর মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান ও পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিবাদের বীজ বপন হয়েছিল অস্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। রাষ্ট্রের পুরো যন্ত্র পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছিল। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি কাঠামোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছিল। স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। এর ফলস্বরূপ একনায়কতন্ত্র, স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদী কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির জন্য ছাত্রজনতা ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থান ঘটায়। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার মদদদাতা, ইন্ধনদাতা, পক্ষপাতিত্বকারী, সহায়তাকারী, প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীরা কেউ কেউ অনেকেরই পূর্ব পরিচিত। তারা সরকার যন্ত্রেরই অংশ ছিলো। আজকে তাদের অনেকের করুণ পরিণতি সম্পর্কে সবাই অবহিত আছেন। অনেকে চাকরিচ্যুত, অনেকে পলাতক, দেশান্তরিত, জেলে আছেন, আইন-আদালত ফেস করছেন। এমনকি তাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরাও আজ কঠিন পরীক্ষার ভিতর দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করে সংশ্লিষ্ট সবাই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এদেশের আপামর জনগণ, রাজনৈতিকদলসহ সর্বমহলের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে। তিনি বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এমন এক মানদণ্ড স্থাপিত হবে, যা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে। উপদেষ্টা এসময় সামান্যতম ভুল বা বিচ্যুতি যাতে নির্বাচন তথা দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে না পারে এবং জনগণের আস্থা হারাতে না পারে সেদিকে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তাছাড়া কোন ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম বা ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ‘কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট যে কোন অভিযোগ এ সেলে করা যাবে। তিনি বলেন, এই সমন্বয় সেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি থাকবেন। এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের প্রতিটি মুহূর্তের তথ্য তাৎক্ষণিক আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’-এর ব্যবহার যেটি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রস্তুত করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম যুক্ত থাকবে। উপদেষ্টা বলেন, অ্যাপটি তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও এর দ্রুত প্রতিকার ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। উপদেষ্টা আরো বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের দ্রুত প্রবেশপত্র প্রদান সম্পন্ন করতে হবে এবং ভোটকেন্দ্রে তাদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দ্রুত পরিচয়পত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। তারা নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য চাইতে পারে। এ বিষয়ে তাদেরকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ এমন উন্নত করতে হবে যাতে সবাই আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসতে পারে। মতবিনিময় সভায় খুলনা বিভাগের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বিজিবি’র খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সব উপ-পুলিশ কমিশনার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, খুলনা বিভাগের নির্বাচনি প্রস্তুতি ভালো। সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপতথ্য বা মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করলে ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে। তিনি আরো বলেন, এবাবের তিনটি বিষয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে যা পূর্ববর্তী নির্বাচনসমূহে সম্ভব হয়নি। সেগুলো হলো নির্বাচন তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার (বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ইত্যাদি), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও এনটিএমসি প্রণীত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ এর ব্যবহার। উপদেষ্টা এগুলোর সফল প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভব হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে: হামিদুর রহমান

ঢাকা-৭ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হামিদুর রহমান বলেছেন, বিএনপি সবসময় স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে কবি নজরুল সরকারি কলেজ সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘কনকসাস বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড ও সার্টিফিকেট’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিজের নির্বাচনী এলাকা প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান বলেন, পুরান ঢাকা বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। বুড়িগঙ্গার দূষণ, ডেঙ্গুর ঝুঁকি এবং যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা রাসায়নিক গুদাম জনজীবনে বড় ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি পুরান ঢাকার তীব্র গ্যাস সংকট নিরসনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হবে। অনুষ্ঠানে সেরা প্রতিবেদনের জন্য কলেজের একদল তরুণ সংবাদকর্মীর হাতে ‘বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেওয়া হয়।
