বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ভোট‑পরিস্থিতি

ঢাকা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশের কয়েকটি জেলায় বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা, মিছিল–সমাবেশ এবং পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা ও ভোটকেন্দ্র এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্বেগ কিছু এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উত্তেজনাকর তথ্য ছড়ানোর কারণে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনের প্রস্তুতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিক সমন্বয় সভা করেছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব ছড়ানো রোধেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সময়ে দায়িত্বশীল আচরণ, সংযমী বক্তব্য এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি। নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। উপসংহার বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং শক্তিশালী প্রশাসনিক ভূমিকার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব—এমনটাই আশা করছে সাধারণ মানুষ।
নির্বাচনে সংশ্লিষ্টদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

নির্বাচনে সংশ্লিষ্টদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ফ্যাসিবাদের করুণ পরিণতির কথা মাথায় রেখে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬’ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে খুলনা বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ নির্দেশ দেন তিনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, র্যাব (এসআইএফ)-এর মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান ও পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিবাদের বীজ বপন হয়েছিল অস্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। রাষ্ট্রের পুরো যন্ত্র পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছিল। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি কাঠামোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছিল। স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। এর ফলস্বরূপ একনায়কতন্ত্র, স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদী কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির জন্য ছাত্রজনতা ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থান ঘটায়। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার মদদদাতা, ইন্ধনদাতা, পক্ষপাতিত্বকারী, সহায়তাকারী, প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীরা কেউ কেউ অনেকেরই পূর্ব পরিচিত। তারা সরকার যন্ত্রেরই অংশ ছিলো। আজকে তাদের অনেকের করুণ পরিণতি সম্পর্কে সবাই অবহিত আছেন। অনেকে চাকরিচ্যুত, অনেকে পলাতক, দেশান্তরিত, জেলে আছেন, আইন-আদালত ফেস করছেন। এমনকি তাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরাও আজ কঠিন পরীক্ষার ভিতর দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করে সংশ্লিষ্ট সবাই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এদেশের আপামর জনগণ, রাজনৈতিকদলসহ সর্বমহলের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে। তিনি বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এমন এক মানদণ্ড স্থাপিত হবে, যা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে। উপদেষ্টা এসময় সামান্যতম ভুল বা বিচ্যুতি যাতে নির্বাচন তথা দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে না পারে এবং জনগণের আস্থা হারাতে না পারে সেদিকে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তাছাড়া কোন ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম বা ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ‘কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট যে কোন অভিযোগ এ সেলে করা যাবে। তিনি বলেন, এই সমন্বয় সেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি থাকবেন। এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের প্রতিটি মুহূর্তের তথ্য তাৎক্ষণিক আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’-এর ব্যবহার যেটি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রস্তুত করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম যুক্ত থাকবে। উপদেষ্টা বলেন, অ্যাপটি তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও এর দ্রুত প্রতিকার ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। উপদেষ্টা আরো বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের দ্রুত প্রবেশপত্র প্রদান সম্পন্ন করতে হবে এবং ভোটকেন্দ্রে তাদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দ্রুত পরিচয়পত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। তারা নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য চাইতে পারে। এ বিষয়ে তাদেরকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ এমন উন্নত করতে হবে যাতে সবাই আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসতে পারে। মতবিনিময় সভায় খুলনা বিভাগের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বিজিবি’র খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সব উপ-পুলিশ কমিশনার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, খুলনা বিভাগের নির্বাচনি প্রস্তুতি ভালো। সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপতথ্য বা মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করলে ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে। তিনি আরো বলেন, এবাবের তিনটি বিষয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে যা পূর্ববর্তী নির্বাচনসমূহে সম্ভব হয়নি। সেগুলো হলো নির্বাচন তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার (বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ইত্যাদি), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও এনটিএমসি প্রণীত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ এর ব্যবহার। উপদেষ্টা এগুলোর সফল প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভব হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে: হামিদুর রহমান

ঢাকা-৭ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হামিদুর রহমান বলেছেন, বিএনপি সবসময় স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে কবি নজরুল সরকারি কলেজ সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘কনকসাস বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড ও সার্টিফিকেট’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিজের নির্বাচনী এলাকা প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান বলেন, পুরান ঢাকা বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। বুড়িগঙ্গার দূষণ, ডেঙ্গুর ঝুঁকি এবং যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা রাসায়নিক গুদাম জনজীবনে বড় ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি পুরান ঢাকার তীব্র গ্যাস সংকট নিরসনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হবে। অনুষ্ঠানে সেরা প্রতিবেদনের জন্য কলেজের একদল তরুণ সংবাদকর্মীর হাতে ‘বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেওয়া হয়।
